





বাংলা ভাষা ও সাহিত্য পাঠ, চর্চা, বিচার ও গবেষণার মধ্য দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এ বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনালগ্ন অর্থাৎ ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বিভাগের কার্যক্রম চালু থাকলেও তখন এর নাম ছিল 'রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগ'। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে এর নামকরণ হয় 'বাংলা বিভাগ'।
বাংলা সাহিত্যের শ্রেণি, যুগ, শাখা ও লেখকভিত্তিক বিবিধ রচনার নিবিড় পাঠ; সাহিত্যের রূপ, রস, ছন্দ, অলংকার সম্বন্ধে সম্যক ধারণালাভ ও পাঠ বিশ্লেষণ; লেখকের নান্দনিক বোধ, যুক্তি ও দর্শন অনুধাবন, নির্ণয় ও বিচার; সাহিত্যতাত্ত্বিক, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, নন্দনচিন্তক ও ভাষাবিজ্ঞানীদের বিভিন্ন তত্ত্ব ও চিন্তা পাঠ ও প্রয়োগ; প্রমিত বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ চর্চা এবং পাণ্ডুলিপি পাঠ ও সম্পাদনা; সম্পর্কিত বিষয়াবলির ওপর গবেষণা পরিচালনা প্রভৃতি নানাকৌণিক পাঠ, বিশ্লেষণ ও গবেষণা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে বাংলা বিভাগের পাঠক্রম প্রণয়ন করা হয়েছে।
স্নাতক শ্রেণিতে ১৪০ ক্রেডিটের বিষয়ভিত্তিক পাঠ কার্যক্রম রাখা হয়েছে। স্নাতক সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুনির্দিষ্ট ও নিবিড় পাঠ-বিশ্লেষণের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৪০ ক্রেডিটের পাঠ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বচর্চা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে সহশিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হয়।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

বিভাগীয় প্রধান এবং সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ-এ রবীন্দ্র সাহিত্য ও পূর্বাপর বাংলা সাহিত্য পাঠ ও গবেষণার জন্য ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘রবীন্দ্র অধ্যয়ন’ নামে একটি বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অধিকতর বিস্তারিত ও নিবিড় পাঠের জন্য বিভাগটির পাঠক্রমের কলেবর বৃদ্ধি করে নামকরণ করা হয়- বাংলা বিভাগ। বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী একদিকে বাংলা সাহিত্যের বিবিধ শাখার বিচিত্র রচনা সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিয়ে থাকেন, অন্যদিকে সাহিত্যবিচার ও সমালোচনায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে দক্ষতা ও গভীর অন্তর্দৃষ্টি অর্জন, বিভিন্ন চিন্তা-অনুভূতি-দর্শনের সঙ্গে পরিচয় লাভ এবং সর্বোপরি মানবিক সমাজ নির্মাণে আগ্রহী দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তোলা বাংলা বিভাগের উদ্দেশ্য।
বাংলা বিভাগের সেমিনার গ্রন্থাগারের সহজ ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই ওয়েবসাইটটি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করে বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষার্থী বিভাগের অফিসকক্ষে না এসেই সেমিনার গ্রন্থাগারের বইয়ের সঞ্চয় সম্বন্ধে ধারণা পাবে; বইটি কত কপি আছে এবং ইতোমধ্যে কেউ ধার নিয়েছে কি-না দেখতে পাবে। বই ধার নিতে চাইলে ওয়েবসাইটে লগইন করে অনুরোধ জানাতে পারবে। বই ধার নেওয়ার পর তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেরত দেওয়ার বিষয়টির ব্যবস্থাপনাও ওয়েবসাইটেই করা হবে। সেমিনার গ্রন্থাগারের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা এই ওয়েবসাইটের প্রাথমিক উদ্দেশ্য। এছাড়াও বেশকিছু শিক্ষা-সহায়ক বিষয় বা সেবা ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। যেমন- প্রকাশিতব্য বিভাগীয় গবেষণা জার্নাল ‘সাহিত্যম’-এর প্রতিটি সংখ্যা ওয়েবসাইটে আপলোড করা থাকবে। শিক্ষার্থীরা চাইলে তা ডাউনলোড করে পড়তে পারবে। কপিরাইট লঙ্ঘিত হয় না এমন ই-বুক-এর লিংক আপলোড করা থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, এশিয়াটিক সোসাইটি, কালি ও কলম প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের অনলাইন জার্নালের লিংকসমূহ ওয়েবসাইটে সন্নিবেশিত থাকায় শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজনীয় প্রবন্ধ বা নিবন্ধ নির্বাচন করে পাঠ করতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও পাঠ অভিজ্ঞতা নতুন মাত্রা পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিভাগের পাঠক্রম ও সিলেবাসের পিডিএফ কপিও চাইলেই শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারবে।
ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করেছে বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী আল মামুন। বাংলা বিভাগ পরিবার তার এই মঙ্গলপ্রয়াসকে সাধুবাদ জানায়। ওয়েবসাইটটি একান্তভাবে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ সাধনে সহায়ক হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
লোড হচ্ছে...
মানব-ইতিহাসের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। পাশ্চাত্য ঘরানার বিশ্ববিদ্যালয় ভারতবর্ষে ঔপনিবেশিক-আমলে প্রতিষ্ঠিত হলেও, প্রাক্-ঔপনিবেশিক আমলে এদেশে নিজস্ব ধারার বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। বিউপনিবেশিত দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে সেই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা-ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা যায়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়জীবনে সচেতনভাবে ঔপনিবেশিক প্রভাবগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে আত্মসত্তার বিচ্ছেদায়ন প্রচেষ্টাই বিউপনিবেশায়ন। উপনিবেশের অধিবাসী হয়েও কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন আদ্যোপান্ত উপনিবেশ-বিরোধী। শিক্ষা বিষয়ক প্রবন্ধগুলোতে তিনি বিউপনিবেশিত দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ঘটিয়ে বুদ্ধিবৃত্তি ও সুকুমার বৃত্তিচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের সম্পর্কে সচেতন করতে ও ঔপনিবেশিক-পশ্চাৎপদতার মোহনিদ্রা থেকে জাগাতে চেয়েছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রয়াসে স্বাধীন ভারতবর্ষ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে...
মো. জাবেদ ইকবাল
সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ভারতবর্ষ তথা বিশ্ববাসীর জীবনে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই মহাযুদ্ধে ভারতবর্ষ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না হলেও ভারতবাসীর জীবনে এই মহাযুদ্ধের প্রভাব ছিল অপরিসীম। এই মহাযুদ্ধ এবং যুদ্ধের উপজাত হিসেবে সৃষ্ট নানা ঘটনা অবলম্বনে তৎকালের সাহিত্যিকেরা রচনা করেছেন অনেকগুলো কালোত্তীর্ণ ছোটগল্প। এসব সাহিত্যিকের মধ্যে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং বিশ্বযুদ্ধের অনিবার্য প্রভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ, মন্বন্তর, চোরাকারবারি, কালোবাজারি, এবং কলেরার মহামারী অবলম্বনে রচিত নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পগুলো অনন্য। সমকালে সংঘটিত এই ঘটনাগুলো অবলম্বনে তাঁর গল্প রচিত হওয়ায় এগুলো হয়েছে সমকালের প্রতিবেদন। গল্পগুলোতে তিনি যেমন সমকালের রূপায়ণ করেছেন, তেমনি রূপায়ণ করেছেন তাঁর কালের নেতিবাচক চরিত্রের মানুষদের এবং সন্ধান করেছেন শুদ্ধসত্তার, ব্যক্ত করেছেন মানবীয়...
মো. জাবেদ ইকবাল
সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫
সাহিত্যের, দর্শনের কিংবা রাষ্ট্রজ্ঞিানের শিক্ষার্থীদের কাছে একথা খুবই পরিচিত যে, দার্শনিক প্লেটো (৪২৮-৩৪৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) তাঁর পরিকল্পিত আদর্শ রাষ্ট্রের আদর্শ নাগরিকদের কাব্যের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার জন্যে কাব্য তথা কবিকে ‘না’ বলেছিলেন এবং কবিদেরকে তাঁর আদর্শ রাষ্ট্র থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করতে চেয়েছিলেন। প্লেটোর মহাপ্রয়াণের প্রায় আড়াই হাজার বছর পরে আমরা উপরিউক্ত মন্তব্যের পুনর্মূল্যায়নে ইচ্ছুক। কারণ, আমরা কিছুদিন পূর্বে দেখেছি যে, ইউরোপের একটি আদালত দার্শনিক সক্রেটিসকে ‘বেকসুর খালাস’ দিয়েছে ঐ অভিযোগ থেকে, যে অভিযোগের কারণে গ্রিসের আদালত সক্রেটিসকে হেমলক পান করিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কাব্য তথা কবিদের সম্বন্ধে প্লেটোর দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনর্মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্লেটোর মন্তব্যগুলোকে আমরা যদি তন্নিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করি,...
মো. জাবেদ ইকবাল
সহকারী অধ্যাপক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫




(রকিবুল হাসান নিটোল ও সানজিদা বহ্নিকে)...
মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫